Warning: in_array() expects parameter 2 to be array, string given in /home/mornings/public_html/e-pathshala.net/wp-content/themes/Theme/framework/plugins-support/woocommerce/woocommerce.php on line 21

Warning: in_array() expects parameter 2 to be array, string given in /home/mornings/public_html/e-pathshala.net/wp-content/themes/Theme/framework/plugins-support/woocommerce/woocommerce.php on line 24

Warning: in_array() expects parameter 2 to be array, string given in /home/mornings/public_html/e-pathshala.net/wp-content/themes/Theme/framework/plugins-support/woocommerce/woocommerce.php on line 27
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য : একটি পরিপূর্ণ উপস্থাপনা - ই-পাঠশালা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য গ্রন্থ। এটিই প্রথম বাংলায় রচিত কৃষ্ণকথা বিষয়ক কাব্য। মনে করা হয়, এই গ্রন্থের পথ ধরেই বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব পদাবলির পথ সুগম হয়। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কাহিনী মানবীয়ভাবে উঠে এলেও, মূলত রাধা-কৃষ্ণকথার আড়ালে ঈশ্বরের প্রতি জীবকুলের মিলনের চরম আকুলতা প্রকাশিত হয়েছে এই কাব্যে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি। কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। কৃষ্ণ পরমাত্না বা ঈশ্বরের প্রতীক, রাধা জীবাত্না বা প্রাণিকুলের প্রতীক ও বড়ায়ি এই দুইয়ের সংযোগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক।

‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ বাংলা ভাষার দ্বিতীয় প্রাচীনতম আবিষ্কৃত নিদর্শন। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং পুথিশালার অধ্যক্ষ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে জনৈক দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। পুথির প্রথম দুটি ও শেষ পৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কাব্যে বড়ু চণ্ডীদাসের তিনটি ভণিতা পাওয়া যায় – ‘বড়ু চণ্ডীদাস’, ‘চণ্ডীদাস’ ও ‘অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস’। এর মধ্যে ‘বড়ু চণ্ডীদাস’ ভণিতা মিলেছে ২৯৮টি স্থানে ও ‘চণ্ডীদাস’ ভণিতা মিলেছে ১০৭ বার। ৭টি পদে ব্যবহৃত ‘অনন্ত’ শব্দটি প্রক্ষিপ্ত বলেই মনে করা হয়। ডঃ মিহির চৌধুরী কামিল্যা মনে করেন, চণ্ডীদাস তাঁর নাম এবং বড়ু প্রকৃত পক্ষে তাঁর কৌলিক উপাধি বাঁড়ুজ্যে বা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপভ্রংশ। আবিষ্কর্তা ও সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বৈষ্ণব লেখকদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে গ্রন্থের নামকরণ করেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। অবশ্য পুথিতে প্রাপ্ত একটি চিরকুটে ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’ লেখা থাকায় অনেকে গ্রন্থটিকে ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’ নামকরণের পক্ষপাতী।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য তেরটি খণ্ডে রচিত। খণ্ডগুলোঃ জন্ম খণ্ড, তাম্বুল খণ্ড, দান খণ্ড, নৌকা খণ্ড, ভার খণ্ড, ছত্র খণ্ড, বৃন্দাবন খণ্ড, কালিয়দমন খণ্ড, যমুনা খণ্ড, হার খণ্ড, বাণ খণ্ড, বংশী খণ্ড, বিরহ খণ্ড।

আমরা আরেকটু ভিন্নভাবে উপস্থাপনা করলে দেখা যায়,  পুঁথিটি  দু‘ভাঁজ করা তুলোট কাগজে  উভয় পৃষ্ঠায় লেখা। পুঁথিটি  খণ্ডিত। এর প্রথম দুটি পাতা,  মাঝের কিছু পাতা এবং ২২৬-এর পর আর কোনো পাতা মেলেনি। ৩-৮, ১০-১৫, ১৭/২, ১৮, ১৯/২, ২০-৪০, ৪২-৮৭, ৮৮/১, ৮৯-৯২, ৯৩/১, ৯৪-৯৭, ৯৮/২, ৯৯-১০৩, ১১২-১৪৪, ১৫২-২২৬ পুঁথিটিতে এই পাতাগুলি আছে। আর যে পত্র/পৃষ্ঠাগুলি নেই সেগুলি হলো- ১, ২,৯, ১৬, ১৭/১, ১৯/১, ৪১, ৮৮/২, ৯৩/২, ৯৮/১, ১০৪-১১১, ১৪৫-১৫১। প্রতিটি পৃষ্ঠায় সাধারণত ৭ টি করে লাইন। তবে ৩-১৫ পর্যন্ত  এই ১৩ টি পত্রে ৮ টি করে লাইন। পুঁথিটিতে মোট বাংলা গান বা পদ আছে ৪১৮টি। সংস্কৃত শ্লোক আছে ১৬১ টি।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের কবি  নিয়েও এক ধরনের ধুম্রজালের সৃষ্টি আছে। উপরে এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়েছে। বড়ু চন্ডীদাস। যদিও শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এর কবি সম্পর্কে আজও অন্ধকারেই আছি। কেননা কবির বিশাল পুঁথিতে কোথাও তাঁর আত্মপরিচয় নেই। তাঁর পরিচয়ের সূত্র তাঁর ব্যবহৃত ভনিতা। গাইল বড়ুচন্ডীদাস বাসলীগণ। বাসলী শিরে বন্দি গাইল চন্ডীদাসে। গাইল অনন্ত বড়ুচন্ডীদাসে দেবী বাসলীগণে। কাব্যের প্রায় সব স্থানেই ভণিতা মিলেছে। বড়ু চন্ডীদাস নামে (২৯৮ বার)। চন্ডীদাস মিলেছে (১০৭ বার)। আর মাত্র ৭ টি স্থানে অনন্ত বড়ুচন্ডীদাস ভনিতা আছে। বড়ু মানে বাড়ুজ্যে বা বন্দ্যোপাধ্যায়।  অধিকাংশ ভনিতাতেই ‘বাসলী’ নামক এক দেবীর নাম বা তাঁর বন্দনা আছে। তাই অনুমান করা হয় তাঁর উপাস্য দেবীর নাম বাসলী। যদিও তাঁর প্রকৃত নাম, জন্মস্থান বা বাসস্থান নিয়ে মতভেদ বিস্তর। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নাম নিয়েও সমস্যা গুরুতর।

 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে প্রধান চরিত্র তিনটি। যথা- রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়ায়ি

কৃষ্ণ :-  কংস বধের জন্যই কৃষ্ণের জন্ম। নারায়ণের একটি কালো চুল থেকেই কৃষ্ণের জন্ম। যা মানব সমাজে বসুদেবের ঘরে দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করে। আর অবতারী শিশু বলেই তার শরীরে বত্রিশ রাজলক্ষণ প্রকাশিত।

রাধা :- সাগর গোয়ালার ঘরে তার জন্ম, পদুমা তার মা, বৃন্দাবনের গোপপল্লীতে তার বাস। সে অপরুপ লাবন্যময়ী ত্রিভূবনমোহিনী। নপুংসক আইহন ঘোষপর পত্নী। বয়স এগারো।

বড়ায়ি :- রাধার মায়ের পিসি, রাধা তার নাতনি, কৃষ্ণ তার নাতি। সে যেন বর ঘরের পিসি আর কনের ঘরের মাসি।

 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের জন্মখণ্ডে  ৯টি, তাম্বুল খণ্ডে ২৬টি, দানখণ্ডে ১১২টি, নৌকা খণ্ডে ৩০টি, ভারখণ্ডে ২৮টি, ছত্রখণ্ডে ৯টি, বৃন্দাবনখণ্ডে ৩০টি, কালীয়দমন খণ্ডে ১০টি, বস্তহরণখণ্ডে ২২টি, হারখণ্ডে ৫টি, বাণখণ্ডে ২৭টি, বংশীখণ্ডে ৪১টি, রাধাবিরহ খণ্ডে ৬৯টি পদ রয়েছে।

 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের তেরোটি খণ্ড নিয়ে এখন আমরা আলোচনা করবো। 

জন্ম খণ্ডঃ

এটি খন্ডিত খণ্ড।কাব্যটি  জন্মখণ্ড দিয়ে শুরু। এ খণ্ডে মোট কবিতা বা পদ রয়েছে ৯টি; এর মধ্যে  সংস্কৃত শ্লোক ৩টি, রাগরাগিণী  ৫টি। এই খন্ডে কৃষ্ণ ও হলধর (বলরাম) এর জন্মের কথা রয়েছে। এখানে আমরা দেখতে পাই, রোহিনী নক্ষত্রে অষ্ঠমী তিথিতে এক অন্ধকার বর্ষার রাতে কৃষ্ণের জন্ম। সেই রাতে পিতা বসুদেব গোকুলে যশোদার কাছে রেখে আসে। কৃষ্ণের পরনে পীতবস্ত্র ও হাতে বাঁশী, বত্রিশ রাজলক্ষণযুক্ত ছিল। শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে রাধার মা পদুমা বা পদ্মা, পিতা সাগর। ‘ ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে’ মা কলাবতী, পিতা বৃষভানু। ‘পদ্মাপুরাণে’ মা কীর্তিদা, পিতা বৃষভানু।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, কৃষ্ণ ও রাধা উভয়ে ঈশ্বরের ইচ্ছায় মর্তে মানবরূপে জন্ম নিয়েছে। কৃষ্ণ পাপী কংস রাজাকে বধ করার জন্য দেবকী ও বাসুদেবের সন্তান হিসেবে জন্ম নেয়। কংস রাজা কৃষ্ণকে হত্যা করতে পারে এই ভয়ে, কৃষ্ণের জন্মমাত্র বাসুদেব গোপনে তাঁকে অনেক দূরে বৃন্দাবনে জনৈক নন্দ গোপের ঘরে রেখে আসে। সেখানেই দৈব ইচ্ছায় আরেক গোপ সাগর গোয়ালার স্ত্রী পদ্মার গর্ভে জন্ম নেয় রাধা। দৈব নির্দেশেই বালিকা বয়সে নপুংসক (ক্লীব) অভিমন্যু বা আইহন বা আয়ান গোপের (ঘোষের) সঙ্গে রাধার বিয়ে হয়। আয়ান গোচারণ করতে গেলে বৃদ্ধা পিসি বড়ায়িকে রাধার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

তাম্বুল খণ্ডঃ

এটি খন্ডিত খণ্ড। এতে মোট পদ ২৬ টি। এতে রয়েছে সংস্কৃত শ্লোক ৭ টি,  রাগরাগিণী ১০ টি। এই খন্ডে রাধা বড়ায়ির কাছ থেকে হারিয়ে যায়। এই খন্ডে রাধার নাম চন্দ্রাবলী পাওয়া যায়। এই খন্ডেই প্রথম যমুনা নদীর নাম পাওয়া যায়। এই খন্ডে বড়ায়ির হাতে কৃষ্ণ কর্পূরবাসিত তাম্বুল ও চাঁপা নাগেশ্বর ফুল পাঠায়। এই খন্ডে রাধা বড়ায়িকে চড় মেরেছে। এই খন্ডে কৃষ্ণ ও বড়ায়ির মধ্যে কথা হয়েছিল যে, কৃষ্ণ মহাদানী হয়ে কদমের তলে যমুনার তীরে বসে থাকবে।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, তাম্বুল অর্থ পান। রাধা ঘর থেকে বের হয়ে অন্য গোপীদের সঙ্গে মথুরাতে দই-দুধ বিক্রি করতে যায়। বড়ায়ি তাঁর সঙ্গে যায়। বৃদ্ধা বড়ায়ি পথে রাধাকে হারিয়ে ফেলে এবং রাধার রূপের বর্ণনা দিয়ে কৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করে, এমন রূপসীকে সে দেখেছে কিনা। এই রূপের বর্ণনা শুনে রাধার প্রতি কৃষ্ণ পূর্বরাগ অনুভব করে। সে বড়ায়িকে বুঝিয়ে রাধার জন্য পান ও ফুলের উপহারসহ প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু বিবাহিতা রাধা সে প্রস্তাব পদদলিত করে।

দান খণ্ডঃ

এটি কাব্যের তৃতীয় ও খন্ডিত খণ্ড। এই খণ্ডে সবচেয়ে বেশি পদ রয়েছে। এতে মোট পদ ১১৩ টি। এতে রয়েছে সংস্কৃত শ্লোক ৪৩ টি, রাগরাগিণী ২০ টি। এই খন্ডে কৃষ্ণ মাহাদানী রূপে ষোল পণ দাবী করে রাধার কাছে। এই খন্ডেই প্রথম রাধার বয়স ১১ বছর বলা হয়েছে। এই খন্ডে রাধার কাছে কৃষ্ণের নয় লক্ষ কড়ি এবং বারো বছরের মহাদান বাকী আছে বলেছে। এই খন্ডে কৃষ্ণ নিজেকে অসুরবিনাশী কালীয়দমনকারী শ্রীকৃষ্ণ রূপে পরিচায়িত করেছে। এই খন্ডে রাধা কৃষ্ণকে মামা-ভাগ্নীর কথা বললেও প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গের জন্য দুই কোটি মুদ্রা দান চেয়ে বসে কৃষ্ণ। এই খন্ডেই প্রথম নিরুপায় রাধা বৃন্দাবনের মাঝে কৃষ্ণের সাথে মিলন ঘটায়।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, দই-দুধ বিক্রির জন্য মথুরাগামী রাধা ও গোপীদের পথ রোধ করে কৃষ্ণ। তার দাবী নদীর ঘাটে পারাপার-দান বা শুল্ক দিতে হবে, তা না হলে রাধার সঙ্গে মিলিত হতে দিতে হবে। রাধা কোনোভাবেই এ প্রস্তাবে রাজী হয় না। এ দিকে তাঁর হাতেও কড়ি নেই। সে নিজের রূপ কমাবার জন্য চুল কেটে ফেলতে চাইল; কৃষ্ণের হাত থেকে বাঁচবার জন্য বনে দৌড় দিল। কৃষ্ণও পিছু ছাড়বার পাত্র নয়। অবশেষে কৃষ্ণের ইচ্ছায় কর্ম হয়।

নৌকা খণ্ডঃ

এটি কাব্যের চতুর্থ খণ্ড। এটি প্রথম সম্পূর্ণ খণ্ড। এই খণ্ডে মোট পদ রয়েছে ৩০ টি। এতে রয়েছে সংস্কৃত শ্লোক ১৩ টি, রাগরাগিণী ১১ টি। এই খন্ডে কৃষ্ণ ঘাটোয়াল সেজে রাধার কাছে সাতেসরী হার, সরস বচন এবং আলিঙ্গন চেয়েছে। এই খন্ডে রাধার শাশুড়ির অনুমতি নিয়ে ষোলোশো গোপিনীর সঙ্গে মথুরার হাটে গেছে। শেষ পর্যন্ত এই খন্ডে রাধা কৃষ্ণকে দ্বিতীয় বার দেহদান করে। এই খন্ডেই প্রথম রাধার মনে মদন জাগে। এই খন্ডে কৃষ্ণ রাধাকে যমুনা নদীতে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচিয়েছে একথা বড়ায়ির কাছে স্বীকার করেছে।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, এরপর থেকে রাধা কৃষ্ণকে এড়িয়ে চলে। কৃষ্ণ নদীর মাঝির ছদ্মবেশ ধারণ করে। একজন পার করা যায় এমন একটি নৌকাতে রাধাকে তুলে সে মাঝ নদীতে নিয়ে নৌকা ডুবিয়ে দেয় এবং রাধার সঙ্গ লাভ করে। নদী তীরে উঠে লোকলজ্জার ভয়ে রাধা সখীদের বলে যে, নৌকা ডুবে গিয়েছে, কৃষ্ণ না থাকলে সে নিজেও মরত, কৃষ্ণ তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে।

ভার খণ্ডঃ

এটি কাব্যের পঞ্চম খণ্ড। এটি খন্ডিত খণ্ড। এতে রয়েছে ২৮/২৯ টি পদ। এতে আছে সংস্কৃত শ্লোক ১১ টি, রাগরাগিণী ১৬ টি। এই খন্ডে চামড় গাছের ডাল কাটার কথা আছে। প্রথম শরৎকালের কথা রয়েছে। এই খন্ডে কৃষ্ণ মজুরিয়া সেজেছে। কৃষ্ণকে রতি দেবে বলে রাধা সমস্ত ভার বহন করিয়েছে। এই খন্ডে রাধা যমুনা নদী ভালোভাবে পার হতে পেরেছে।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, শরৎকাল। শুকনো পথ ঘাটে হেঁটেই মথুরাতে গিয়ে দই-দুধ বিক্রি করা যায়। কিন্তু রাধা আর বাড়ির বাইরে আসে না। শাশুড়ি বা স্বামীকে সে আগের ঘটনাগুলো ভয়ে ও লজ্জায় খুলে বলে নি। এদিকে রাধা অদর্শনে কৃষ্ণ কাতর। সে বড়ায়িকে দিয়ে রাধার শাশুড়িকে বোঝায়, ঘরে বসে থেকে কি হবে, রাধা দুধ-দই বেচে কটি পয়সা তো আনতে পারে। শাশুড়ির নির্দেশে রাধা বাইরে বের হয়। জিন্তু প্রচণ্ড রোদে কোমল শরীরে দই-দুধ বহন করতে গিয়ে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই সময়ে কৃষ্ণ ছদ্মবেশে মজুরী করতে আসে। পরে ভার বহন অর্থাৎ মজুরির বদলে রাধার আলিঙ্গন কামনা করে। রাধা এই চতুরতা বুঝতে পারে। সেও কাজ আদায়ের লক্ষ্যে মিথ্যা আশ্বাস দেয়। কৃষ্ণ আশায় আশায় রাধার পিছু পিছু ভার নিয়ে মথুরা পর্যন্ত চলে।

ছত্র খণ্ডঃ

এটি কাব্যের ষষ্ঠ খণ্ড। খন্ডটি খন্ডিত। মোট কবিতা বা পদ রয়েছে ৯ টি। এতে রয়েছে সংস্কৃত শ্লোক ৬টি, রাগরাগিণী ৮টি। এটি ভারখন্ডান্তর্গত ছত্রখন্ড। এই খন্ডটি হাট থেকে বাড়ি ফিরবার ঘটনা। এই খন্ডে রাধা-কৃষ্ণের তর্কাতর্কি হয়েছে। এই খন্ডে কৃষ্ণ রাধার মাথায় ছাতা ধরলে তাকে কুঞ্জবনে সুরতি দেবে বলেছে। কিন্তু খন্ডিত বলে রতি দিয়েছিল কিনা জানা যায় নি।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, দুধ-দই বেচে এবার মথুরা থেকে ফেরার পালা। কৃষ্ণ তাঁর প্রাপ্য আলিঙ্গন চাইছে। রাধা চালাকি করে বলে, ‘এখনো প্রচণ্ড রোদ। তুমি আমাদের ছাতা ধরে বৃন্দাবন পর্যন্ত চলো। পরে দেখা যাবে’। কৃষ্ণ ছাতা ধরতে লজ্জা ও অপমান বোধ করছিল। তবুও আশা নিয়ে ছাতা ধরেই চলল। কিন্তু তাঁর আশা পূর্ন করেনি রাধা।

বৃন্দাবন খণ্ডঃ

এটি কাব্যের সপ্তম ও খন্ডিত খণ্ড। এতে মোট ৩০টি পদ আছে। এতে রয়েছে সংস্কৃত শ্লোক ১১টি, রাগরাগিণী ১১টি। এই খন্ডে রাধার ব্রতের ফুল তুলবার জন্য বৃন্দাবন যাওয়ার কথা আছে। কালিন্দীর তীরে ধীর বায়ু বইছে উল্লেখ আছে। এই খন্ডে কৃষ্ণ ষোলোশো গোপীকে তুষ্ট করতে বহুমূর্তি হয়ে তাদের বিলাস করিয়েছে। কৃষ্ণ রাধার চরণযুগল হৃদয়ে ধারণ করার কথা আছে এ খণ্ডে। এইখানে চুম্বকোল কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে। এই খন্ডেই তৃতীয় বার প্রথম দুই জনের ইচ্ছাতেই মিলন হয়েছে। এই খন্ডের অনেক কবিতার সঙ্গে বৈষ্ণব পদাবলীর অনেক পদের মিল দেখা যায়। এই খন্ডে জয়দেবেরর প্রভাব আছে।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, রাধার বিরুদ্ধ মনোভাব কৃষ্ণকে ভাবান্তর ঘটায়। সে অন্য পথ অবলম্বন করে। নিজে কটু বাক্য বলে না, দান বা শুল্ক আদায়ের নামে বিড়ম্বনা করে না, বরং বৃন্দাবনকে অপূর্ব শোভায় সাজিয়ে তুলল। রাধা ও গোপীরা সেই শোভা দর্শন করে কৃষ্ণের উপর রাগ ভুলে যায়। তাঁরা পরিবর্তিত কৃষ্ণকে দেখতে আগ্রহ দেখায়। কৃষ্ণ সব গোপিকে দেখা দেয়। পরে রাধার সঙ্গে তাঁর দর্শন ও মিলন হয়।

কালিয়দমন খণ্ডঃ

কবি প্রদত্ত এই খণ্ডের নাম যমুনাখন্ডান্তর্গত কালীয়দমন খন্ড। এই খন্ডটি সম্পূর্ণ পাওয়া গেছে। সম্পূর্ণের দিক থেকে দ্বিতীয় খন্ড। এতে মোট পদ ১০টি। এতে রয়েছে সংস্কৃত শ্লোক ২টি, রাগরাগিণী ৭টি। এই খন্ডে বৃন্দাবনে যমুনা নদীতে কালীদহ নামে একটা গভীর হ্রদের কথা আছে। এই হ্রদে কালীয় নামে একটি সাপ আছে। এবং কালীয়নাগ ও তার সর্পকুল কৃষ্ণকে দংশন করেছিল এবং কৃষ্ণ জ্ঞান হারিয়েছিল। বলভদ্র কৃষ্ণের জ্ঞান আওড়ালেন। এখানে নন্দ-যশোদার উল্লেখ আছে। এই খন্ডে কালীয়নাগদের সপরিবারে দক্ষিন সাগরে পাঠানোর কথা আছে। কালীয়দমন খন্ডের প্রধান ঘটনা কালীয়নাগ দমন।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, যমুনা নদী বৃন্দাবনের উপর দিয়ে প্রবাহিত। সেখানে কালিয়নাগ বাস করে। তার বিষে সেই জল বিষাক্ত। কৃষ্ণ কালিয়নাগকে তাড়াতে নদীর জলে ঝাঁপ দেন। দৈব ইচ্ছায় ও কৃষ্ণের বীরত্বে কালিয়নাগ পরাস্ত হয় এবং দক্ষিন সাগরে বসবাস করতে যায়। কালিয়নাগের সঙ্গে কৃষ্ণ যখন জলযুদ্ধে লিপ্ত, তখন রাধার বিশেষ কাতরতা প্রকাশ পায়।

যমুনা খণ্ডঃ

এটি কাব্যের নবম খণ্ড। প্রাপ্ত পুঁথিতে এই খণ্ডের কোনো নাম পাওয়া যায় নি। সম্পাদক নিজে বিবেচনা করে নাম দিয়েছেন যমুনাখণ্ড। কোনো কোনো গবেষক এর নাম দিয়েছেন যমুনান্তর্গত বস্ত্রহরণ খণ্ড। তাঁদের মতে কালীয়দমন খণ্ড, বস্ত্রহরণ খণ্ড ও হার খণ্ড মিলিয়ে সম্পূর্ণ যমুনা খণ্ড। কারণ এই তিনটি খন্ডের বিষয়বস্তুই যমুনার পটভূমিতে সৃষ্ট। এটি সম্পূর্ণ খন্ড। সম্পূর্ণের দিক থেকে এটি তৃতীয় খন্ড। এতে মোট ২২টি কবিতা রয়েছে। এতে আছে সংস্কৃত শ্লোক ১১টি, রাগরাগিণী ১১টি। এই খন্ডে কৃষ্ণ রাধাকে সোনার কিঙ্কিনী, দীর্ঘ পট্টবস্ত্র, রতন খচিত মাথার মুকুট ইত্যাদির প্রলোভন দেখিয়েছিল। এই খন্ডে রাধাকে কাছে ডেকে তার গালে একটা চুম্বন দিয়ে বসে। এই খন্ডে কৃষ্ণ পদ্মাবনে লুকিয়ে পড়েছিল। এই খন্ডে পরের দিন ভোরে কৃষ্ণ যমুনা তীরে কদম গাছে উঠে বসে ছিল। এই খন্ডে কৃষ্ণ রাধা ও গোপীদের বস্ত্রগুলি নিয়েছিল। এই খন্ডে শেষপর্যন্ত রাধা অর্ধজলমগ্ন অবস্থায় ডানহাতে বুক ঢাকা দিয়ে ডাঙায় উঠে হাত জোড় করলে কৃষ্ণ বস্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিল কিন্তু হারটি দেয় নি। বৈষ্ণব সমাজে এই খন্ডটি সাড়া ফেলেছিল। স্বয়ং চৈতন্যদেব বস্ত্রহরণ খণ্ডে অভিনয় করেছিলেন। এখানে যে হারটির কথা বলা হয়েছে তা হল রাধার গলার গজমতি হার।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, রাধা ও গোপীরা যমুনাতে জল আনতে যায়। কৃষ্ণ যমুনার জলে নেমে হটাৎ ডুব দিয়ে আর উঠে না। সবাই মনে করে কৃষ্ণ দুবে গেছে। এদিকে কৃষ্ণ লুকিয়ে কদম গাছে বসে থাকে। রাধা ও সখীরা জলে নেমে কৃষ্ণকে খুঁজতে থাকে। কৃষ্ণ নদী তীরে রাধার খুলে রাখা হার চুরি করে আবার গাছে গিয়ে বসে।

হার খণ্ডঃ

এটি কাব্যের দশম ও খন্ডিত খণ্ড। খন্ডের প্রথমেই পুঁথিতে আছে যমুনান্তর্গত হারখন্ড। কিন্তু শেষে নাম আছে ইতি যমুনাখন্ড। এতে মোট কবিতা ৫টি। এতে আছে সংস্কৃত শ্লোক ৩টি, রাগরাগিণী ৩টি। এখানে কৃষ্ণের নামে যশোদার কাছে অভিযোগ করলে কৃষ্ণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। এখানে বড়ায়ি আইহনকে রাধার হার হারানোর কথা বলেছেন। এখানে দামাল বলদের কথা উল্লেখ আছে।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, পরে কৃষ্ণের চালাকি রাধা বুঝতে পারে। হার না পেয়ে রাধা কৃষ্ণের পালিতা মা যশোদার কাছে নালিশ করে। কৃষ্ণও মিথ্যে বলে মাকে। সে বলে, আমি হার চুরি করব কেন, রাধাতো পাড়া সম্পর্কে আমার মামি। এদিকে বড়ায়ি সব বুঝতে পারে এবং রাধার স্বামী আয়ান হার হারানোতে যাতে রাগান্বিত বা ক্ষুব্ধ না হয় সেজন্য বলে যে, বনের কাঁটায় রাধার গজমোতির হার ছিন্ন হয়ে হারিয়ে গেছে।

বাণ খণ্ডঃ

এটি কাব্যের একাদশ খণ্ড। এটি সম্পূর্ণ খন্ড। সম্পূর্ণের দিক থেকে চতুর্থ। এতে মোট কবিতা ২৭টি। এতে আছে সংস্কৃত শ্লোক ৮টি, রাগরাগিণী ১৪টি। এই খন্ডে বড়ায়ি কৃষ্ণকে বলেছে যে, তুমি রাধাকে পুষ্পবাণ মারো। পাঁচ বাণে তার প্রাণ নাও। এই খন্ডে রাধা বড়ায়ির পায়ে ধরে নিজেকে রক্ষার জন্য লক্ষমুদ্রার আংটি উপহার দিতে চেয়েছিল। এই খন্ডে রাধার বুকে বাণ মেরেছিল। এখানে তালপাতার পাখার বাতাসের কথা আছে। এই খন্ডে কৃষ্ণ বৃন্দাবনে লুকিয়ে পড়ে এবং পরে কুঞ্জবনে দেখা পেলে রাধা-কৃষ্ণের মিলন হয়। এই খন্ডেই প্রথম বড়ায়ি কৃষ্ণকে দোষারোপ করে।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, মায়ের কাছে নালিশ করায় কৃষ্ণ রাধার উপর ক্ষুব্ধ। রাধাও কৃষ্ণের প্রতি প্রসন্ন নয়। বড়ায়ি বুদ্ধি দিল, কৃষ্ণ যেন শক্তির পথ পরিহার করে মদনবাণ বা প্রেমে রাধাকে বশীভূত করে। সে মতো কৃষ্ণ পুষ্পধনু নিয়ে কদমতলায় বসে। রাধা কৃষ্ণের প্রেমবাণে মূর্চ্ছিত ও পতিত হয়। এরপর কৃষ্ণ রাধাকে চৈতন্য ফিরিয়ে দেয়। রাধা কৃষ্ণপ্রেমে কাতর হয়ে কৃষ্ণকে খুঁজে ফেরে।

বংশী খণ্ডঃ

এটি কাব্যের দ্বাদশ খণ্ড। এটি সম্পূর্ণ খণ্ড। সম্পূর্ণের দিক থেকে পঞ্চম। সম্পূর্ণ হলেও ৬নং কবিতার আটটি অক্ষর পড়া যায় নি। এতে রয়েছে মোট ৪১টি কবিতা। এতে আছে সংস্কৃত শ্লোক ১৯টি, রাগরাগিণী ১৬টি। এই খন্ডে কৃষ্ণ মোহন বাঁশী নির্মান করে। তাতে সাতটি সুন্দর ছিদ্র, তা সোনার সামি লাগানো ও হীরের কারুকার্য যুক্ত। এখানে বসন্তের কথা উল্লেখ আছে। এই খন্ডে রাধা বড়ায়ির কাছে কৃষ্ণকে আনার প্রার্থনা করেছে। এই খন্ডে বড়ায়ির নির্দেশে রাধা কৃষ্ণের বাঁশী চুরি করে কলসীতে ভরে বাড়ি নিয়ে গেছে। এই খন্ডে কৃষ্ণকে নিদ্রাচ্ছন্ন করেছিল বড়ায়ি। এখানে বাঁশী চুরির উদ্দেশ্য ছিল কৃষ্ণ বাঁশী বাজিয়ে রাধাকে যেভাবে আকুল করেছিল তা থেকে রক্ষা পাওয়া।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, রাধাকে আকৃষ্ট করার জন্য সময়-অসময়ে কৃষ্ণ বাঁশিতে সুর তোলে। কৃষ্ণের বাঁশি শুনে রাধার রান্না এলোমেলো হয়ে যায়, মন কুমারের চুল্লির মতো পুড়তে থাকে, রাত্রে ঘুম আসে না, ভোর বেলা কৃষ্ণ অদর্শনে রাধা মূর্চ্ছা যায়। বড়ায়ি রাধাকে পরামর্শ দেয়, সারারাত বাঁশি বাজিয়ে সকালে কদমতলায় কৃষ্ণ বাঁশি শীয়রে রেখে ঘুমায়। তুমি সেই বাসি চুরি কর, তাহলেই সমস্যার সমাধান হবে। রাধা তাই করে। কৃষ্ণ বুদ্ধিমান। বাঁশি চোর কে তা বুঝতে তাঁর কোনো কষ্ট হয় না। রাধা কৃষ্ণকে বলে, বড়ায়িকে সাক্ষী রেখে কৃষ্ণকে কথা দিতে হবে যে, সে কখনো রাধার কথার অবাধ্য হবে না ও রাধাকে ত্যাগ করে যাবে না, তাহলেই বাঁশির সন্ধান মিলতে পারে। কৃষ্ণ কথা দিয়ে বাঁশি ফিরে পায়।

বিরহ খণ্ডঃ

এটি কাব্যের তেরোতম ও শেষ খণ্ড। পুঁথিতে খণ্ডটির নাম নেই, পুঁথিতে আছে রাধাবিরহ। এতে রয়েছে মোট ৬৯টি কবিতা। এতে আছে সংস্কৃত শ্লোক ১৭টি, রাগরাগিণী ২৩টি। এই খন্ডে চৈত্র মাসের কথা আছে। কোকিলের ডাক আছে। এই খন্ডে রাধা একরাত্রে কৃষ্ণ মিলনের স্বপ্ন দেখেছিল। এই খন্ডে রাধা যোগিনী বেশে দেশত্যাগী হতে চেয়েছে। রাধা বড়ায়িকে কৃষ্ণের সন্ধানে শতপল সোনা, কর্পূর বাসিত পান সুপুরি নিয়ে যেতে বলে। এই খন্ডে রাধা বৃন্দাবনের কদমতলায় মোহিনী বেশ ধারণ করেছে। এই খন্ডে রাধা কৃষ্ণের কাছে পূর্বের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। এই খন্ডে কৃষ্ণ শর্ত দিয়েছিল যে, রাধা মনোহর বেশে আসুক, মধুর সম্ভাষণ করুক তাহলে কৃষ্ণ তাকে সাদরে গ্রহণ করবে। এখানে রাধা-কৃষ্ণের মিলন ঘটেছে। এখানেও বসন্তের উল্লেখ আছে। এই খন্ডে কৃষ্ণ বলেছে, আমি ধন ঐশ্বর্য ত্যাগ করতে পারি কিন্তু বাক্যজ্বালা সহ্য করতে পারিনা। এই খন্ডে রাধারই একমাত্র ভুমিকা এবং পুরোটায় তার কৃষ্ণকে হারিয়ে মর্মযন্ত্রনার কথা প্রকাশিত।

গদ্যের আঙ্গিকে এভাবে বলা যায়, কৃষ্ণ তারপরও রাধার উপর উদাসীন। এদিকে মধুমাস সমাগত।রাধা বিরহ অনুভব করে। রাধা বড়ায়িকে কৃষ্ণকে এনে দিতে বলে। দই-দুধ বিক্রির ছল করে রাধা নিজেও কৃষ্ণকে খুঁজতে বের হয়। অবশেষে বৃন্দাবনে বাঁশি বাজানো অবস্থায় কৃষ্ণকে খুঁজে পাওয়া যায়। কৃষ্ণ রাধাকে বলে, ‘তুমি আমাকে নানা সময় লাঞ্ছনা করেছো, ভার বহন করিয়েছো, তাই তোমার উপর আমার মন উঠে গেছে’। রাধা বলে, ‘তখন আমি বালিকা ছিলাম, আমাকে ক্ষমা করো। আমি তোমার বিরহে মৃতপ্রায়। তির্যক দৃষ্টি দিলেও তুমি আমার দিকে তাকাও’। কৃষ্ণ বলে, ‘বড়ায়ি যদি আমাকে বলে যে তুমি রাধাকে প্রেম দাও, তাহলে আমি তোমার অনুরোধ রাখতে পারি’। অবশেষে বড়ায়ি রাধাকে সাজিয়ে দেয় এবং রাধা কৃষ্ণের মিলন হয়। রাধা ঘুমিয়ে পড়লে কৃষ্ণ নিদ্রিত রাধাকে রেখে কংসকে বধ করার জন্য মথুরাতে চলে যায়। ঘুম থেকে উঠে কৃষ্ণকে না দেখে রাধা আবার বিরহকাতর হয়। রাধার অনুরোধে বড়ায়ি কৃষ্ণের সন্ধানে যায় এবং মথুরাতে কৃষ্ণকে পেয়ে অনুরোধ করে, ‘রাধা তোমার বিরহে মৃতপ্রায়। তুমি উন্মাদিনীকে বাঁচাও’। কিন্তু কৃষ্ণ বৃন্দাবনে যেতে চায় না, রাধাকে গ্রহন করতে চায় না। কৃষ্ণ বলে, ‘আমি সব ত্যাগ করতে পারি, কিন্তু কটু কথা সহ্য করতে পারি না। রাধা আমাকে কটু কথা বলেছে’। (‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য এখানে ছিন্ন। পৃষ্ঠা পাওয়া না যাওয়ায়, এ কাব্যের সমাপ্তি কেমন তা জানা যায় নি।)

 


ই-পাঠশালা’র একাডেমিক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণধর্মী ক্লাস, ব্লগগুলো ভালো লাগলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না। এবং আরও ক্লাস পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজ : ই-পাঠশালা । e-pathshala এবং ইউটিউব চ্যানেল : e-pathshala । 


ই-পাঠশালা’র ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার/আপনার লেখাটি ই-মেইল করতে পারো/পারেন এই ঠিকানায়:  Support@E-Pathshala.Net 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Fill out this field
Fill out this field
Please enter a valid email address.
You need to agree with the terms to proceed

Menu