Warning: in_array() expects parameter 2 to be array, string given in /home/mornings/public_html/e-pathshala.net/wp-content/themes/Theme/framework/plugins-support/woocommerce/woocommerce.php on line 21

Warning: in_array() expects parameter 2 to be array, string given in /home/mornings/public_html/e-pathshala.net/wp-content/themes/Theme/framework/plugins-support/woocommerce/woocommerce.php on line 24

Warning: in_array() expects parameter 2 to be array, string given in /home/mornings/public_html/e-pathshala.net/wp-content/themes/Theme/framework/plugins-support/woocommerce/woocommerce.php on line 27
বিষাদ সিন্ধু : পাপ অথবা প্রেমের জয়-পরাজয়ের এক মহাকাব্যিক উপন্যাস - ই-পাঠশালা

বিষাদ সিন্ধু পাপ অথবা প্রেমের জয়-পরাজয়ের একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস আখ্যান। মীর মশাররফ হোসেনের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি ও ইতিহাস আশ্রিত একটি উপন্যাস বিষাদ সিন্ধু। কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে যুদ্ধের ভয়াবহ বিয়োগান্তক ঘটনার মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক কাহিনীকে উপজীব্য করে সু-লেখক মীর মশাররফ হোসেন তার আপন মনের মাধুরী দিয়ে এ ট্রাজেডি ঘন মহাগদ্য কাব্যটি রচনা করেন।

বিষাদ সিন্ধুর উপন্যাসের কাহিনী সংখ্যা প্রচুর, এর মধ্যে প্রধান হলো-

১. এজিদ
২. জায়েদ

বিষাদ সিন্ধুর এজিদ 

এজিদ বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের কেন্দ্রিয় চরিত্র। সে চিন্তায় আচরণে আবেগ ও প্রেমে ঈর্ষায় দৃঢ়। সে ছিল জেদী, নিষ্ঠুর ও অসম্ভব স্বেচ্ছাচারি ব্যক্তি। সে একবার যা মন স্থির করে তা করেই থাকে। এজিদ পাপী, ধর্মদ্রোহী এবং ইন্দ্রিয় পরবস। তার পরিণাম যেমন সৈনিক তার অত্যাচারের মধ্যে নৃশংসতা থাকলেও নিচতা নেই। এজিদের লোভ লালসার কারনে বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের গতি পরিবর্তন হয়েছে।

বিষাদ সিন্ধুর জায়েদা

এজিদের পরপর ই জায়েদার স্থান উপন্যাসে। সে হাসান (রাঃ) স্ত্রী। জায়েদা রূপবতী সতীসাধ্বী যুবতী। সে হাসান (রাঃ) এর প্রথম স্ত্রী হাসনেবানুকে অনেক শ্রদ্ধা করতো। বিনিময়ে হাসনেবানুও জায়েদাকে অনেক আদর করতো ছোট বোনের মতো। জায়েদা ছিল স্বামী ভক্ত। এক সময় সে ই স্বামীর হত্যায় মেতে উঠে মায়মুনার প্ররোচনায়। স্বামীকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করে সে।

বিষাদ সিন্ধুর অপ্রধান চরিত্র গুলো হলো-

১.মারওয়া
২.সীমার
৩.মায়মুনা
৪.হাসান
৫.হোসেন
৬.হানিফা
৭.জয়নাব ইত্যাদি

মারওয়ান: মাবিয়ার জীবিত কালেই এজিদের দক্ষিণ হস্ত মারওয়ান। তার কৌশলের কারনেই হাসান মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও এজিদের কাছে মারওয়ানই ছিলো গুরুত্বপূর্ণ।

সীমার: সীমার সাহসী বীর হলেও সে ছিলো লোভী। অর্থই ছিলো তার জীবনের মূল মন্ত্র। এজিদের কাছ থেকে হোসেনের মস্তকের বিনিময়ে সে লক্ষ টাকা পেতে চেয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত হানিফার হাতে তার মৃত্যু হয়।

মায়মুনা: সে এক অর্থলোভী নারী। মারওয়ান তাকে আবিষ্কার করে হাসানের স্ত্রী জায়েদাকে, হাসানকে হত্যার দায়িত্ব দেয়। মায়মুনা আগাম স্বর্ণমুদ্রার লোভে এ কার্যে সম্মত হয়।

হাসান: হযরত আলী (রাঃ)’র ১ম পুত্র হাসান (রাঃ)। সে বিধাতা ও নিয়তিকে একান্ত ভাবে বিশ্বাস করে। সে সৎগুনের পিন্ড। সে বুঝতে পেরেছে যে তার স্ত্রী জায়েদা তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছে, তবুও সে জায়েদার জন্য বেহেশতে জায়েদার জন্য অপেক্ষা করবে বলে প্রতীজ্ঞা করেন।

হোসেন: আলী (রাঃ)’র কনিষ্ঠ ও উপযুক্ত পুত্র ইমাম হোসেন (রাঃ)। মদিনা থেকে একবার সীমারের সৈন্যবাহিনীকে বিতাড়িত করেন। পরিশেষে কারবালার প্রান্তরে সীমারের হাতে প্রাণ ত্যাগ করেন।

হানিফা: হানিফা ও হযরত আলী (রাঃ)’র সাহসী পুত্র। হোসেনের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে দৃঢ়কল্প হানিফা।
জয়নাব: জয়নাব আঃ জাব্বারের স্ত্রী কিন্তু সে নির্লিপ্ত ও নির্লোভ। হাসান হোসেনের সংঘর্ষের মূল কারন জয়নাব।

মীর মশাররফ হোসেনের “বিষাদ সিন্ধু”উপন্যাসের কাহিনীকে ৩টি পর্বে বিভক্ত করেছেন।

১. মহররম পর্ব (২৭)
২. উদ্ধার পর্ব (৩০) ও
৩. এজিদ বধ পর্ব (৫)

মোট ৬২টি অধ্যায়ে উপন্যাসটি সাজিয়েছে লেখক। এ অধ্যায়গুলোকে প্রবাহ নাম দিয়েছে।

উপন্যাসের প্রথমেই দেখা যায় দামেস্ক অধিপতি মাবিয়া/মুয়াবিয়ার পুত্র এজিদ জয়নাবের প্রতি প্রেমাসক্তি ও ব্যর্থতার কথা ‘মহরম পর্বে’ অভিব্যক্ত হয়েছে। হাসানের স্ত্রী জয়নাবের প্রতি এজিদের প্রেমদুর্বলতা থাকলেও জয়নাব এজিদের নিকট কখনোই আসিনি।রযার ফলে হাসানের প্রতি তার শত্রুতা শুরু হয়। যার কারনে তাকে প্রাণ দিতে হয়। আর এ ষড়যন্ত্রে এজিদ জায়দাকে ব্যাবহার করেছে। হাসানের তিনজন স্ত্রী।

১. হাসনেবানু
২. জায়েদা ও
৩. জয়নাব

জয়নাবকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করায় জায়েদা/জাএদা প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে উঠে। জাএদার এই ঈর্ষা কাজে লাগিয়ে মায়মুনা সু-কৌশলের বীজ বপন করে।  বিষ প্রয়োগে হাসান (রাঃ) কে হত্যা না করতে পেরে চক্ষুবিহীন বৃদ্ধ কর্তৃক বর্শা নিক্ষেপে হাসানকে হত্যা করার চেষ্টা করে যা আরেক বিষাদময় ঘটনা।  প্রথমে জাএদা হাসানকে হত্যা করতে রাজি না হলেও পরিশেষে জয়নাবের প্রতি হাসানের প্রেমানুভূতি দেখে রাজি হয় এবং হাসান (রাঃ) কে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেন। জয়নাব এজিদের জন্যই তার প্রথম স্বামী আঃ জাব্বারকে হারিয়েছে। আবার হাসানকেও হারালো। এজিদ জয়নাবকে পাওয়ার জন্যই এ যুদ্ধ, এ হত্যাযজ্ঞ সব কিছুই জয়নাবকে না পাওয়ার কালোছায়া।

ইমাম হোসেনের মৃত্যু এ উপন্যাসের করূণাঘন এক বিষাদময় ঘটনা। সীমার “খঞ্জন” হস্তে হোসেনের বুকের উপর বসে যে ভাবে হোসেনের মাথা কাঁটতে চেষ্টা করেছে, তা সবাইকে আঁতকে তুলে। এরপর বর্শার মাথায় বিদ্ধ করে মস্তক নিয়ে সীমার দ্রুত বেগে চলে যায়। আর তখন আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে রব উঠে হায় হোসেন! হায় হোসেন!

মস্তক নিয়ে পথি মধ্যে আজর নামের এক ব্যাক্তির বাসায় আশ্রয় নেয়। আজর এ পবিত্র মস্তক সীমারের নিকট থেকে রক্ষা করতে নিজের পুত্রের মস্তক দেয় সীমারকে। কিন্তু সীমার বুঝতে পেরে আজরকেও হত্যা করে, আর তা আজরের স্ত্রী দেখে সে হোসেন (রাঃ)’র মস্তক রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবনও বিসর্জন দেয়। আর এ কাহিনী লিখতে গিয়ে মীর মশাররফ হোসেন অতুলনীয় ভাষা ব্যবহার করেছেন।

সীমার লোভী। তাকেও এজিদ নিষ্কৃতি দেয়নি। তাকেও হত্যা করেছে এজিদ।

পরিশেষে হোসেনের পরিবারকে বন্দি করে এজিদ। খবর পেয়ে হানিফা সম্পর্কে জয়নালের চাচা ছুটে আসে, জয়নালসহ তার পরিবারকে উদ্ধার করতে। যুদ্ধক্ষেত্রে সে এজিদের অনেক সৈন্য হত্যা করে। শেষে এজিদকে আক্রমণ করে। এজিদ প্রাণভয়ে পালাতে থাকে এবং সে তার গুপ্ত কুটিরে প্রবেশ করে। হানিফা তাকে হত্যা করতে না পেরে ফিরে আসে এবং তার সামনে যাকে পায় তাকেই হত্যা করে। তখন তাকে থামানোর জন্য স্বয়ং ঈশ্বর তাকে ‘প্রস্তর নির্মিত দেয়ালে” ঘেরাও করে চিরবন্দি করে রাখে। আর এসব ঘটনা মানব মনে সত্যি সত্যি বিষাদের কালোছায়ায় আচ্ছন্ন করে রাখে।

এ উপন্যাসের ঘটনা এত ব্যাপক যে একটি ঘটনার সাথে আরেকটির মিল খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মূল কাহিনীর সাথে ছোট-বড় অনেক কাহিনী যুক্ত হয়ে কাহিনীকপ পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। যে বিষাদময় কাহিনী দিয়ে শুরু আবার সে কাহিনী দিয়েই শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Fill out this field
Fill out this field
Please enter a valid email address.
You need to agree with the terms to proceed

Menu