Warning: in_array() expects parameter 2 to be array, string given in /home/mornings/public_html/e-pathshala.net/wp-content/themes/Theme/framework/plugins-support/woocommerce/woocommerce.php on line 21

Warning: in_array() expects parameter 2 to be array, string given in /home/mornings/public_html/e-pathshala.net/wp-content/themes/Theme/framework/plugins-support/woocommerce/woocommerce.php on line 24

Warning: in_array() expects parameter 2 to be array, string given in /home/mornings/public_html/e-pathshala.net/wp-content/themes/Theme/framework/plugins-support/woocommerce/woocommerce.php on line 27
কিশোরগঞ্জ জেলা উপজেলার নামকরণের ইতিহাস ও সাধারণ তথ্য - ই-পাঠশালা

জেলা উপজেলার নামকরণের ইতিহাস ও সাধারণ তথ্য নিয়ে আমাদের নিয়মিত আয়োজনের আজ পর্ব-১

আজকের জেলা: কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ  জেলা উপজেলার নামকরণের ইতিহাস 

কিশোরগঞ্জ জেলা 

নামকরণ- কিশোরগঞ্জ জেলার প্রাচীন নাম জঙ্গলবাড়ি। অনেকের মতে, উনিশ শতকের প্রথম দিকে কিশোরগঞ্জ নামকরণ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। কিশোরগঞ্জ নামকরণ নিয়ে কয়েকটি মতবাদ প্রচলিত আছে। বত্রিশ প্রামাণিক পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী কৃষ্ণদাস প্রামাণিকের ষষ্ঠতম সন্তান নন্দকিশোর একটি হাট/বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। নন্দকিশোরের নামের শেষাংশ দিয়ে গঞ্জ টি কিশোরগঞ্জ নামে প্রচিতি লাভ করে। জেলা গেজেটিয়ারে যদিও ঘটনাটি অন্যভাবে বিধৃত করা হয়েছে। কৃষ্ণদাস প্রামাণিকের সাত সন্তানের একজনের নাম ব্রজকিশোর যার নামানুসারে এলাকাটির নাম কিশোরগঞ্জ হয়। মজার তথ্য হলো, নীলফামারী জেলায় কিশোরগঞ্জ নামে একটি উপজেলা আছে (নীলফামারীর জমিদার কিশোর মহন রায় এর নামানুসারে নামকরণ করা হয়)।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা

নামকরণ- জেলার নামকরণ অনুসারে।

করিমগঞ্জ উপজেলা

নামকরণ- মোঘল সম্রাটের নৌ প্রধান করিম খানের নামানুসারে অঞ্চলটির নাম করিমগঞ্জ রাখা হয়। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এখানে প্রথম থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। ঈশা খানের জঙ্গলবাড়ি দুর্গের দরবার গৃহ এবং বাসভবন এ উপজেলার উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থান।

হোসেনপুর উপজেলা

নামকরণ- মোঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ এর আমলে তৎকালীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্‌ ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে পরগনার জনগণের অবস্থা দেখার জন্য এখানে আগমন করেন এবং দুলবাজার নামক এক জায়গায় তাবু গেঁড়ে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকাটির নাম সুলতানের নামানুসারে হোসেনপুর নাম ধারণ করে। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে এখানে প্রথম থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। পিতলগঞ্জ নীলকুঠি, ভাংগাটিয়া জমিদারবাড়ির মন্দির, কুলেশ্বরীবাড়ি কালীমন্দির ইত্যাদি হোসেনপুর উপজেলার প্রত্নসম্পদ। মজার তথ্য হলো, বাংলাবর্ণের ক্রমানুসারে বাংলাদেশের সর্বশেষ উপজেলার নাম হোসেনপুর (প্রথম উপজেলা যশোরের অভয়নগর)।

পাকুন্দিয়া উপজেলা

নামকরণ- এই উপজেলার মানচিত্র অনেকটা বৃত্তের মতো। পাকুন্দিয়া উপজেলা নামকরণ সম্পর্কে অনেক প্রবাদ প্রচলিত আছে। সুকুমার সেনের মতে, পাকুর এবং দিয়া শব্দ দুটো নিয়ে পাকুরদিয়া অপভ্রংশে পাকুন্দিয়া নামকরণ করা হয়। পাকুর একটি গাছের নাম এবং দিয়া শব্দের অর্থ দুপাশে নদী বেষ্টিত ভূমি। একসময় নদী বেষ্টিত এই এলাকাটিতে প্রচুর পাকুর গাছ জন্মাতো। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।

কটিয়াদি উপজেলা

নামকরণ- কথিত আছে, কটিয়াদির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আড়িয়াল খাঁ নদীর উত্তর তীরে আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন কটি ফকির নামে এক লোক বাস করতেন। বহুলোক তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর নামানুসারে এলাকাটির নাম হয় কটিয়াদি। অনেকেই মনে করেন নীলকুঠি থেকে কটিয়াদি নামের উৎপত্তি। ইংরেজ আমলে আড়িয়াল খাঁ নদীর তীর সংলগ্ন এলাকায় অনেকগুলো নীলকুঠি এবং একটি হাট গড়ে উঠে। হাট টি নীলকুঠিহাট>কুঠি হাট অপভ্রংশে কটিয়াদি নাম ধারণ করে। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে কটিয়াদি থানা উপজেলায় উন্নীত হয়।

বাজিতপুর উপজেলা 

নামকরণ- মোঘল আমলের জনৈক রাজকর্মচারী বায়েজিদ খাঁ জ্ঞানী ও জনদরদী মানুষ ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর ব্যবহারের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পায় এবং তাঁর নামানুসারে স্থানটি বায়েজিদপুর অপভ্রংশে বাজিতপুর নামকরণ করা হয়।
১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। একসময় বাজিতপুর মুক্তা সরবরাহের জন্য বিখ্যাত ছিল।

কুলিয়ারচর উপজেলা 

নামকরণ- একসময় মেঘনা ও কালী নদীতে জলদস্যুর প্রচন্ড প্রতাপ ছিল। মোঘল সম্রাট জলদস্যু দমন করার জন্য কুলি খাঁ নামে একজন সুবেদারের অধীনে একদল সেনা পাঠান। কুলি খাঁর নেতৃত্বে জলদস্যুতা বন্ধ হয় এবং এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটে। সুবেদার কুলি খাঁর নামে চরটির নাম হয় কুলিখাঁর চর অপভ্রংশে কুলিয়ার চর। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।

ভৈরব উপজেলা

নামকরণ- প্রাচীন বিটঘর (বর্তমান নবীনগর) তালুকদার ভৈরব রায় নৌবিহারের সময় মেঘনা-ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গমস্থলে অবস্থিত বিস্তীর্ণ সবুজ চরাঞ্চল দেখে মুগ্ধ হোন। ভাগলপুরের জমিদার দেওয়ান আহমেদ রেজা এর অনুমতিতে ভৈরব রায় পরিত্যক্ত এ চরাঞ্চলে আবাদ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং নতুন প্রজা এনে চাষাবাদ শুরু করেন। সে থেকে অঞ্চলটি ভৈরব নামে পরিচিতি পায়। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।

নিকলি উপজেলা 

নামকরণ- এককালে এইজায়গায় প্রচুর নিমগাছ ছিলো। স্থানীয় কবিরাজগণ নিমের কলি থেকে ঔষধ বানাতো। অন্যান্য এলাকা থেকেও নিমের কলি নেয়ার জন্য লোকজন এই এলাকায় আসতো। কেউ কেউ মনে করেন, নিম গাছের কলি হতে নিমকলি অপভ্রংশে নিকলী নামকরণ করা হয়। আবার অনেকের মতে, এখানকার জমিদার নিখিলচন্দ্রের নামানুসারে নিকলির নামকরণ করা হয়। ১৭২৬ খ্রিস্টাব্দে এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।

অষ্টগ্রাম উপজেলা

নামকরণ- অষ্টগ্রাম নামকরণে অনেকগুলো প্রবাদ প্রচলিত আছে। প্রবাদমতে, বল্লাল সেনের বিরুদ্ধে আট অধিসামন্ত বিদ্রোহ করে যাদের বাস ছিল এই এলাকায়, তাই এলাকাটির নাম অষ্টগ্রাম। অনেকের মতে, আটটি পৃথক গ্রামকে যুক্ত করে এ জনপদ গঠিত হয় বলে এর নাম অষ্টগ্রাম। অনেকেই মনে করেন, হযরত শাহজালাল (রঃ) এর সাথে আগত আটজন আওলিয়ার সম্মানার্থে এলাকাটি আটগাঁও অপভ্রংশে অষ্টগ্রাম নামকরণ করা হয়। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। আনুমানিক চতুর্দশ শতকে নির্মিত পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ এই এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপত্য।

ইটনা উপজেলা

নামকরণ- ইটনা উপজেলার নামকরণ নিয়ে মজার প্রবাদ প্রচলিত আছে। জমির জরিপ চলাকালে কর্মচারীরা জরিপের ইতি ঘোষণা করার পরেও দেখা গেলো এলাকাটি আরো বড়, তাই জরিপের ইতি না। এই ইতিনা অপভ্রংশে ইটনা নামে পরিচিত হয়। তবে অনেকেই এই কাহিনীকে নিছক প্রবাদ মনে করেন। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।

মিঠামইন উপজেলা

নামকরণ- এলাকাটি একসময় খগড়া বনে পূর্ণ ছিল। খগড়া টিপলে মিঠা রস বের হতো। জনশ্রুতি, মন ভরানো এ মিঠা খগড়া বনের কারণে এলাকাটির নাম হয় মিঠামন অপভ্রংশে মিঠামইন। আবার অনেকের মতে, জলাভূমির গভীর পানিতে মইন নামে এক প্রজাতির ধান জন্মাতো, যার চাল অনেক মিষ্টি ছিল। স্থানীয় ভাষায় মিষ্টিকে মিঠা বলার কারণে ধানের নামে এলাকাটির নাম হয় মিঠামইন। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।

তাড়াইল উপজেলা

নামকরণ- তাড়াইল>তারাইল শব্দের অর্থ তারা সুন্দরীর আইল বা তারা সুন্দরীর ভূখন্ড। এই এলাকাটি জমিদার মহিম রায় তাঁর মা তারা সুন্দরীর নামে সেবা ও ধর্মকর্মে ব্যয় করার জন্য দান করেন। তাই এলাকাটি তারাইল>তাড়াইল নামে পরিচিতি পায়। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে এখানে থানা সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

জেলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য 

আয়তন: ২৬৮৮.৫৯ বর্গ কিলোমিটার।

জনসংখ্যা: ৩০,২৮,৭০৬ জন (আদমশুমারী ২০১১)।

মোট উপজেলা: ১৩ টি (কিশোরগঞ্জ সদর, করিমগঞ্জ, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদি, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর, ভৈরব, নিকলি, অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন, তাড়াইল)।

সংসদীয় আসন: ১৬২ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর), ১৬৩ (কটিয়াদি ও পাকুন্দিয়া), ১৬৪ (করিমগঞ্জ ও তাড়াইল), ১৬৫ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম), ১৬৬ (নিকলি ও বাজিতপুর), ১৬৭ (কুলিয়ারচর ও ভৈরব)।

জেলার মর্যাদা লাভ: ১৯৮৪

পাকিস্তানী দখল মুক্ত হয়: ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১ অর্থাৎ বিজয়ের একদিন পর (সুত্রঃ www. Banglatribune.com)।

জেলার বিখ্যাত: হাওরের মাছ, পনির, লাঠিখেলা, পালা সাহিত্য, ঘাটু গান।

জেলার ব্রান্ড নাম: “উজান-ভাটির মিলিত ধারা, নদী-হাওড় মাছে ভরা”

বিখ্যাত ব্যাক্তি: কবি দ্বিজ বংশীদাস (মনসা মঙ্গল কাব্যের রচয়িতা), সুকুমার রায় (শিশু সাহিত্যিক), অধ্যাপক নিরোদ চন্দ্র চৌধুরী (অক্সফোর্ডের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক), শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম (প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি), মরহুম জিল্লুর রহমান (সাবেক রাষ্ট্রপতি), জনাব এডভোকেট আব্দুল হামিদ (মহামান্য রাষ্ট্রপতি), সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী), ডঃ ওসমান ফারুক (সাবেক শিক্ষামন্ত্রী), আনন্দমোহন বসু (অবিভক্ত ভারতের ছাত্র আন্দলনের জনক ও আনন্দমোহন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা), শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন (আর্টস কলেজ-বর্তমান চারুকলা ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা), সত্যজিৎ রায় (বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক), ডাঃ আব্দুল আলিম চৌধুরী (শহীদ বুদ্ধুজীবী ও প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ), ইলিয়াস কাঞ্চন (চলচ্চিত্র অভিনেতা), শামীম আরা নীপা (তারকাখ্যাত নৃত্যশিল্পী) প্রমুখ।

দর্শনীয় স্থান: শোলাকিয়া ঈদগাহ, জঙ্গলবাড়ি, এগারোসিন্ধুর দুর্গ, চন্দ্রাবতীর মাঠ, নিকলি হাওড়, বালিখলা বাধ, পাগলা মসজিদ, দিল্লীর আখড়া (মিঠামইন) ইত্যাদি।

 

লেখক : রবিউল আলম লুইপা

 

তথ্যসূত্র:

বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবপোর্টাল (www.kishoreganj.gov.bd)
উইকিপিডিয়া (www.wikipedia.org)
বাংলাপিডিয়া (www.banglapedia.org)
বাংলা ট্রিবিউন (www. Banglatribune.com)
বাংলাদেশের স্থানীয় নামের ইতিহাস, ম্যাগনাস ওপাস, ঢাকা।
বাংলা স্থাননাম, আনন্দ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা।
বাংলাদেশের জেলা নামকরণের ইতিহাস, গতিধারা।
৬৪ জেলা ভ্রমণ, অনিন্দ্য প্রকাশ।
বাংলাদেশের জেলা গেজেটিয়ার, বৃহত্তর ময়মনসিংহ।
বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালাঃ কিশোরগঞ্জ জেলা, বাংলা একাডেমী।
জেলা উপজেলা ও নদনদীর নামকরণের ইতিহাস, ড. মোহাম্মদ আমিন।
নামকরণের নেপথ্যে, আহমদ আবদুল্লাহ মানিক।
বাংলাদেশের ইতিহাস, রমেশচন্দ্র মজুমদার, কলকাতা।
বাংলাপিডিয়া, ১ম-১০ম খন্ড, বংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Fill out this field
Fill out this field
Please enter a valid email address.
You need to agree with the terms to proceed

Menu