Warning: in_array() expects parameter 2 to be array, string given in /home/mornings/public_html/e-pathshala.net/wp-content/themes/Theme/framework/plugins-support/woocommerce/woocommerce.php on line 21

Warning: in_array() expects parameter 2 to be array, string given in /home/mornings/public_html/e-pathshala.net/wp-content/themes/Theme/framework/plugins-support/woocommerce/woocommerce.php on line 24

Warning: in_array() expects parameter 2 to be array, string given in /home/mornings/public_html/e-pathshala.net/wp-content/themes/Theme/framework/plugins-support/woocommerce/woocommerce.php on line 27
কপালকুণ্ডলা : বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস আখ্যান - ই-পাঠশালা

কপালকুণ্ডলা উপন্যাসতে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস বলা হয়ে থাকে। আমরা আজ সেই রোমান্টিক উপন্যাস নিয়েই কথা বলবো। শ্রেণিভিত্তিক পড়াশোনার এ পর্যায়ে স্নাতক প্রথম বর্ষের (বাংলা বিভাগ) উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’ নিয়ে আলোচনা করবো। আমাদের আজকের বিষয়বস্তু – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’।

 

তুমি অধম — তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?

পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?

দুটো লাইনই অবিস্মরণীয় উক্তি যা বাংলা ভাষায় সুভাষিত উক্তি রূপে বহুল ব্যবহৃত ও চর্চিত হয়। প্রথম লাইনটা শোনেনি, এমন বাঙালি বোধহয় খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আর দ্বিতীয় লাইনটাকে বাংলা সাহিত্যে সর্বপ্রথম ও শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক ডায়লগের স্বীকৃতি দেয়া হয়। দুটো লাইনই বঙ্কিমচন্দ্রের এক উপন্যাসের অংশ — নাম ‘কপালকুণ্ডলা’।

বঙ্কিমের কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলো :

  • কপালকুন্ডলা
  • নবকুমার
  • কাপালিক

 

 কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নিই –

কপালকুণ্ডলা: কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং এরই সাথে নাম চরিত্র কপালকুণ্ডলা। সে প্রকৃত দুহিতা, সাগরতীরবাসী কাপালিক কর্তৃক প্রতিপালিত। চির সন্ন্যাসিনী কপালকুণ্ডলা। সে সাগরের মতো স্বাধীন, প্রকৃতির মতো নির্ভয়া। সে কোনো লৌকিক আচরণ শিখেনি।তাইতো বিয়ে সম্পর্কে সে অনজ্ঞ।

নবকুমার: নবকুমার কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের সহজ সরল, শিক্ষিত, বিনীত, কৌতূহলী, কুসংস্কারহীন এক পুরুষ চরিত্র। সে এ উপন্যাসের নায়ক চরিত্র।

পদ্মাবতি: পদ্মাবতী রামগোবিন্দ ঘোষের কন্যা। সে নবকুমারের প্রথম বিয়ে করা স্ত্রী। ১৩ বছর বয়সে সপরিবারে পুরুষোত্তম দর্শনে গিয়ে বাসায় আসার পথে দস্যু কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে জাত বিসর্জন দিয়ে নিষ্কৃত লাভ করে। ফলে তারা মুসলমান হয়ে যায়।আর তখন পদ্মাবতীর নাম হয় লুৎফুন্নেসা। দেশ ভ্রমণে তার ছদ্মনাম মতিবিবি। এখন তার বয়স ২৭।

 

কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের অপ্রধান চরিত্রগুলো হলো: 

  • কাপালিক
  • অধিকারী
  • শ্যামাসুন্দরী

 

 কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের অপ্রধান চরিত্রগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নিই – 

কাপালিক: কাপালিক তন্ত্রমন্ত্র সাধক। বয়স ৫০। তার ক’টিদেশ থেকে জানু পর্যন্ত শার্দুল চর্মে আবৃত। সে ভৈরবীর পূজা করে, যার একমাত্র উপাধান নরমাংশ। আর তাইতো সে নবকুমারকে লতাপাতা দিয়ে আটকে রেখেছিলো। কাপালিক মূলতো এক নিষ্ঠুর চরিত্র।

অধিকারী: কপালকুণ্ডলার একমাত্র আপনজন এই অধিকারী। অরণ্য অভ্যন্তরে যে দেবমন্দির, অধিকারী সে মন্দিরের সেবক। নবকুমারের সাথে কপালকুণ্ডলাকে বিয়ে দেয় এই অধিকারী।

শ্যামাসুন্দরী: নবকুমারের ভগ্নী শ্যামাসুন্দরী, সে কুলীন পত্নী। কপালকুণ্ডলাকে গৃহিণী করে তুলতে চেষ্টা করে শ্যানাসুন্দরী। তার বিশ্বাস কপালকুণ্ডলা একদিন পরশ পাথর হয়ে উঠবে, কারন পুরুষ হলো নারীর একমাত্র পরশ পাথর।

 

 

কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের মূলকাহিনী সংক্ষেপে বলা যায় এভাবে-

বাংলা সাহিত্যে সার্থক উপন্যাসের ধারা সূচিত হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে। ‘কপালকুণ্ডলা’ তার রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। ১৮৬৬ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলা সাহিত্যের প্রথম দিককার অন্যতম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস। মানব প্রেম, সমাজিকতা, ইতিহাস ও অতিপ্রাকৃত উপাদানের মিশেলে বেড়ে উঠেছে কাহিনী। ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে বিভক্ত করে লেখা। প্রতি খণ্ড আবার কয়েকটি আলাদা আলাদা পরিচ্ছেদে বিভক্ত করে আলাদা আলাদা শিরোনাম দিয়ে লেখা হয়েছে। গল্পের শুরু হয়েছে তীর্থযাত্রীদের নৌকায় পথ হরাবার মধ্য দিয়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে নবকুমার এক জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপে আটকা পড়েন। সেখানে এক কাপালিক তাকে বলি দিতে উদ্যত হয়। তখন কাপালিকের পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলা তার প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। স্থানীয় মন্দিরের অধিকারীর সহায়তায় নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে বিয়ে করে নিজের বাড়ি সপ্তগ্রামে ফিরে আসেন। পথে মতিবিবি বা লুৎফউন্নিসা নামে এক বিদেশী রমণীর সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয়। কপালকুণ্ডলা বাল্যকাল থেকে জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপে কাপালিকের কাছে বড় হওয়ায় স্বাভাবিক সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে অপরিচিত ছিলেন। নবকুমারের বাড়িতে তিনি ধীরে ধীরে সমাজের মানুষজন ও তাদের আচার-আচরণ সম্পর্কে ধারণা পেলেন। কপালাকুণ্ডলা নাম বদলে তার নাম রাখা হল মৃন্ময়ী। মতিবিবি বা লুৎফউন্নিসা আসলে নবকুমারের প্রথমা স্ত্রী পদ্মাবতী ছিলেন। পরে সপরিবারে মুসলমান হয়ে আগ্রা চলে যান। পথে নবকুমারকে দেখে তিনি পুনরায় তাকে স্বামীরূপে লাভ করতে উৎসুক হন এবং সপ্তগ্রাম চলে আসেন। পদ্মাবতীর পরিচয় জানার পর নবকুমার তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। এদিকে কাপালিক কপালকুণ্ডলাকে বধ করতে সপ্তগ্রাম চলে আসে। তার হাত ভেঙে যাওয়ায় সে পদ্মাবতীর সাহায্য চায়। পদ্মাবতী ব্রাহ্মণবেশ ধারণ করে কপালকুণ্ডলাকে সব খুলে বলে এবং নবকুমারকে ছেড়ে চলে যেতে অনুরোধ করে। ব্রাহ্মণবেশী পদ্মাবতীর সাথে কপালকুণ্ডলাকে দেখতে পেয়ে নবকুমার তাকে ভুল বুঝে খুব কষ্ট পান। আর কাপালিক সুযোগ বুঝে সুরাপান করিয়ে নবকুমারকে উস্কে দিতে থাকেন। শেষপর্যন্ত নবকুমার আর কপালকুণ্ডলার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব সংঘাতের মধ্য দিয়ে উভয়েই জীবনের চরম উপসংহারে উপনীত হয়।

 

কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের মূলকাহিনী সহজ করে বলা যায় এভাবে-

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র তার কপালকুণ্ডলা উপন্যাসটিকে  ৪টি খন্ডে বিভক্ত করে প্রতিটিকে আবার কয়েকটি পরিচ্ছদে বিভক্ত করে নামকরণ করেছেন। এ উপন্যাসের নায়ক নবকুমার আর নায়িকা কপালকুণ্ডলা। নবকুমার তীর্থভ্রমণ সাগর সংগমনে গেলে তাদের নৌকা দিকভ্রান্ত হয়ে সমুদ্রে প্রবেশ করে। বহু চেষ্টার পরও মাঝিরা সমুদ্র উপকূলে নৌকা আনয়ন করতে সক্ষম হয়নি। এরি মধ্যে নৌকার সবাই ক্ষুধায় কাতর, নৌকায় চাল-ডাল ইত্যাদি থাকলেও রান্না করার মতো কাঠ ছিলো না। আর তাই নবকুমার বনের মধ্যে যায় কাঠ সংগ্রহ করতে। কিন্তু বনে ছিলো বাঘের ভয় তাই তার (নবকুমার) সাথে আর কেউ যায়নি। নবকুমারের আসতে দেরী দেখে নৌকার সবাই মনে করে যে নবকুমারের আসার আর সম্ভবনা নাই। তাই সবাই জোয়ার থাকতে থাকতে নৌকা নিয়ে চলে আসে। ঐ দিকে নবকুমার এসে দেখে তার সাথীগণ তাকে রেখে চলে গেছে। ফলে সে সমুদ্রের জলরাশির দিকে চেয়ে রইলো। তখন সূর্য ডুবো ডুবো অবস্থা। এমন সময় তার সম্মুখে এক নারী মূর্তি, আর তা দেখে নবকুমার বিস্মিত। নারী তাকে বলে,

পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?

তখন নবকুমার ঐ নারীকে অনুসরণ করে বনের মধ্যে প্রবেশ করে। সেখানে একটি কুটির, কুটিরে প্রবেশ করলে সাক্ষাৎ হয় কাপালিকের সাথে। কাপালিক ভৈরবী পূজার বলি দিয়ে সিদ্ধি লাভ করতে চায়। ভৈরবী পূজার বলি নরমাংশ। তাই কাপালিক নবকুমারকে লতাপাতা দিয়ে বেঁধে রাখে। নারীটির নাম কপালকুণ্ডলা। কপালকুণ্ডলা চায় নবকুমারকে বাচাঁতে। ফলে সে (কপালকুণ্ডলা) নবকুমারকে কাপালিকের হাত থেকে কৌশলে বাঁচিয়ে অধিকারীর নিকট নিয়ে আসে। অধিকারী সব কথাবার্তা শুনে কপালকুণ্ডলা আর নবকুমারকে বিয়ে দিয়ে নবকুমারকে তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে পালকিতে পাঠিয়ে নিজে হাঁটতে থাকে। কিছু দূর যাওয়ার পরে বৃষ্টি হয়। ফলে তার সাথে এক অপরিচিত মেয়ের সাথে দেখা হয়। তখন তারা উভয়ে একটি সরাইখানায় গিয়ে হাজির হয়। কিছুক্ষন কথোপকথনের পর জানতে পারে মেয়েটি রাজপ্রতিনিধি মতিবিবি ওরফে লুৎফন্নেসা। এ নারী নবকুমারের প্রথম বিয়ে করা স্ত্রী। তাকে নবকুমার চিনতে পারেনি কিন্তু মতিবিবি ঠিকই চিনেছে। পরদিন মতিবিবি (পদ্মাবতী) রাজধানীরেউদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়, অন্যদিকে নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে নিয়ে তাদের বাসায় অর্থাৎ মহকুমায় ফিরে আসে। কপালকুণ্ডলা এখানে এসে সবার সাথে একাত্ম হয়ে যায়। আর এভাবে কাহিনী অগ্রসর হয়। পদ্মবতী যে মতিবিবি হয়েছে তার কাহিনী এবং সে যে বাংলায় চলে আসে রাজধানী ছেড়ে তা উপন্যাসকে অগ্রসর হতে রসদ যোগায়। পদ্মাবতী তার স্বামী নবকুমারকে পেতে চায়। তাই সে ব্রাহ্মণ কুমার ছদ্মবেশে কপালকুণ্ডলার সাথে দেখা করে যাতে নবকুমারের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। কপালকুণ্ডলার সাথে নবকুমারের বিচ্ছেদ ঘটিয়ে কপালকুণ্ডলাকে স্বামী পরিত্যাগ করতে বলে ধনরত্নের বিনিময়ে। অন্যদিকে কাপালিক বহুদিন সন্ধান করে নবকুমারের কাছে কপালকুণ্ডলার অসচ্চরিত্রের প্রমাণ দিয়ে কপালকুণ্ডলাকে তার হাতে সমর্পণ করতে বলে। এদিকে কপালকুণ্ডলা কাপালিককে চিনতে পারে ফলে কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে নদীর তীরে স্নান করতে নিয়ে যায়। যেতে যেতে সে নবকুমারকে সব জানায় এবং ভৈরবীর পূজার বলির কথাও বলে। সব শুনে নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে তার সাথে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু কপালকুণ্ডলা কোনো মতেই রাজি হয় না। এরে মধ্যে তারা নদীর খুব কাছে চলে আসে। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে মাটি ধ্বসে কপালকুণ্ডলা সহ নদীতে পরে যায়। নবকুমার ও কপালকুণ্ডলা নদীতে ঝাপিয়ে পরে সে গভীর জলের ঘূর্ণাবর্তে। আর এভাবে তারা হারিয়ে যায় নদীর গভীর জলে। পুরো ঘটনা বিশ্লষণ করলে দেখা যায় পদ্মাবতীর চেয়ে কপালকুণ্ডলারই ট্রাজেডি বেশি। নবকুমারকে দিয়ে উপন্যাসের শুরু ও শেষ হলেও এ উপন্যাসে কপালকুণ্ডলার প্রাধান্য বেশি। আর কপালকুণ্ডলার ট্রজেডিই সবাইকে আপ্লুত করে।

 

কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের চরিত্র বিশ্লেষণ : 

‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র চিত্রণে চমক দেখিয়েছেন বঙ্কিমচন্দ্র। উপন্যাসের কেন্দ্রিয় চরিত্র কপালকুণ্ডলা। বিয়ের পর নাম দেয়া হয় মৃন্ময়ী। তিনি ঊনিশ শতকেই নারীকে উপস্থাপন করেছেন ভিন্ন মাত্রায়। কপালকুণ্ডলা ছিল রুপবতী, সাহসী, পরোপকারী, স্বাধীনচেতা, ধর্মপরায়ণা এবং জাগতিক কলুষতা মুক্ত। বিপদে নবকুমারকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে, ননদিনীর ঔষধ আনতে রাতে একা বের হয়েছে আবার যখন বনে ঘুরতে বাধা পেয়েছে মনে করেছে তার অরণ্যে ঘুরে বেড়ানোর দিনগুলিই ভালো ছিল। স্বামী কর্তৃক সন্দেহের স্বীকার হয়ে শেষে আত্মাভিমানে চিরতরে দূরে সরে যেতে চেয়েছে।

 

নবকুমার উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র। উপন্যাসের প্রধান দুই নারীচরিত্রের আবর্তনে সে ছিল কেন্দ্র। নবকুমার সৎ, পরোপকারী এবং ধার্মিক। তার চারিত্রিক দৃঢ়তার কারণে পদ্মাবতীকে সে ফিরিয়ে দিতে পেরেছিল। স্ত্রীর প্রতি তার ভালবাসা গভীর ছিল কিন্তু বিশ্বাসের গভীরতার কিছুটা যেন অভাব দেখা গেছে। তাই কাপালিকের মিথ্যা প্ররোচনায় পা দিয়ে ভুল বুঝেছিল তার মৃন্ময়ীকে।

 

পদ্মাবতী চরিত্রটিকে বিভিন্ন নাম দিয়েছেন লেখক সময়ের প্রয়োজনে। কখনো লুৎফুন্নেসা কখনো বা মতিবিবি। ভাগ্য বিড়ম্বনায় স্ব-ধর্ম হারিয়ে মুসলিম হয়। সেই সাথে সম্পর্ক ঘুঁচে যায় স্বামীর সাথেও। সে যেমন ছিলো রূপবতী তেমনি বুদ্ধিমতী। তাকে কখনো আমরা দেখতে পাই প্রেমময়ী নারী রূপে আবার কখনো দুর্দান্ত কূটনীতিবিদ হিসেবে। মোগল সম্রাটের সাথে কাহিনীর যোগসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এই চরিত্রটি। সর্বোপরি উপন্যাসের প্লট বিন্যাসে তার ভূমিকা ব্যাপক।

 

উপন্যাসে কিছু ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মোগল শাহাজাদা সেলিম ও মেহেরুন্নেসার প্রেম কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। যেহেতু এটা ঐতিহাসিক উপন্যাস নয় তাই নিরেট সত্যকে আশ্রয় করে চিত্রায়িত হয়নি চরিত্রগুলো। ইতিহাসের সাথে লেখক তার কল্পনা মিশিয়ে কাহিনী নির্মাণ করেছেন।

 

 

ই-পাঠশালা’র একাডেমিক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণধর্মী ক্লাস, ব্লগগুলো ভালো লাগলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না। এবং আরও ক্লাস পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেসবুক পেজ : ই-পাঠশালা । e-pathshala এবং ইউটিউব চ্যানেল : e-pathshala

ই-পাঠশালা’র ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার/আপনার লেখাটি ই-মেইল করতে পারো/পারেন এই ঠিকানায়:  Support@E-Pathshala.Net 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Fill out this field
Fill out this field
Please enter a valid email address.
You need to agree with the terms to proceed

Menu